যেমনি করে টক তেঁতুলের সংস্পর্শে দুধ দই হয়ে যায়, তেমনিভাবে কারাগারসদৃশ এই জড়জগতে আমাদের চিত্ত কামে রূপান্তরিত হয়ে আমরা কৃষ্ণবিস্মৃতি হয়ে পড়ি।

দেখুন, শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে যে, জীবের সব চাইতে বড় শত্রু হচ্ছে কাম। এই কামই শুদ্ধ জীবাত্মাকে এই জড় জগতে আবদ্ধ হয়ে থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
কিন্তু কিভাবে.........

দেখুন তাহলে!

জীব যখন জড়া প্রকৃতির সংস্পর্শে আসে, তখন তার অন্তরের শাশ্বত কৃষ্ণপ্রেম রজোগুণের প্রভাবে কামে পর্যবসিত হয়। তারপর, কামের অতৃপ্তির ফলে হৃদয়ে ক্রোধের উদয় হয়, ক্রোধ থেকে মোহ এবং এভাবেই মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার ফলে জীব জড় জগতের বন্ধনে স্থায়িভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। আর এজন্যই কামকে বড় শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

একটা বিষয় দেখুন, ভগবান হচ্ছেন সৎ-চিৎ-আনন্দময় আর জীব হচ্ছে এই চিন্ময় আনন্দের আংশিক প্রকাশ। তাহলে আমরা প্রত্যেকেই আনন্দ না পেয়ে কেন কষ্ট পাচ্ছি? কেউ কি কখনোও অন্বেষণ করেছেন?


দুধ হচ্ছে প্রকৃত আইডেন্টিফিকেশন, কিন্তু সেই দুধে যখন টক আর তেঁতুল মিশ্রণ করা হয় তখন কি আর সেটা দুধ থাকে? অবশ্যই না। তখন সেটা দইয়ে পরিণত হয়ে যায়।

ঠিক তেমনি, ভগবান এই জগতে আমাদের পাঠিয়েছেন নিজেদের সংশোধন করার জন্য। কিন্তু আমরা সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে এবং ভগবানের সেবা না করে নিজেদের ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধন করতে শুরু করি এবং তখনি আমরা কামের কবলে পতিত হয়ে কৃষ্ণবিস্মৃতি হয়ে পড়ি।
তাহলে সমাধান কি মুক্ত হবার? নো টেনশান..........সমাধান নিশ্চয়ই রয়েছে!

দেখুন শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে, "জন্মাদ্যস্য যতোহন্বয়াদিতরতশ্চ" অর্থাৎ সব কিছুর উৎস হচ্ছেন পরমব্রহ্ম বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। সুতরাং, সহজেই বুঝা যাচ্ছে কামেরও উৎস তাহলে ভগবান।

তাই যদি এই কামকে ভগবৎ-প্রেমে রূপান্তরিত করা যায়, অথবা কৃষ্ণভাবনায় উদ্ধুদ্ধ করা যায়, কিংবা সব কিছু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিয়োজিত করা যায়, তাহলে কাম ও ক্রোধ উভয়ই অপ্রাকৃত চিন্ময়রূপ প্রাপ্ত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
দুটো উদাহরণ দেখুন, বিষয়টা আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে........

শ্রীরামচন্দ্রের ভক্ত হনুমান শ্রীরামচন্দ্রকে তুষ্ট করবার জন্য রাবণের স্বর্ণলঙ্কা দগ্ধ করেছিলেন এবং এভাবেই তিনি তাঁর ক্রোধকে শত্রুনিধন কার্যে প্রয়োগ করেছিলেন।

আবার, ভগবদ্গীতায় আমরা দেখতে পাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর সমস্ত ক্রোধ শত্রুবাহিনীর উপরে প্রয়োগ করে ভগবানেরই সন্তুষ্টি বিধানের কাজে লাগাতে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

আপনারাও এরকমভাবেই নিজেদের কাম এবং ক্রোধকে ভগবানের সেবায় লাগাতে পারেন। আর আমরা যখন কাম ও ক্রোধকে ভগবানের সেবায় নিয়োগ করি, তখন তারা আর শত্রু থাকে না, আমাদের বন্ধুতে রূপান্তরিত হয়।
মন্তব্যসমূহ